| বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের নৌ অবরোধের হুমকিতে মোহসেন রেজাইয়ের কড়া জবাব | ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ ২০২৬।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-04-2026 ইং
  • 1156140 বার পঠিত
ট্রাম্পের নৌ অবরোধের হুমকিতে মোহসেন রেজাইয়ের কড়া জবাব | ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ ২০২৬।
ছবির ক্যাপশন: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ ২০২৬।

‘টুইট দিয়ে ইরানকে থামানো যাবে না’: ট্রাম্পের নৌ অবরোধের হুমকিতে মোহসেন রেজাইয়ের কড়া জবাব

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক ও প্রতিরক্ষা

সময়: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | বিকেল ৫:৩০

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। হরমুজ প্রণালি অবরোধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা এবং আইআরজিসি-র সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরানের ওপর কোনো ধরণের নৌ অবরোধ আরোপের চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে।

১. ‘ঐতিহাসিক পরাজয়’ নিশ্চিত

মোহসেন রেজাই তার বক্তব্যে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কাছে পরাজয় বরণ করেছিল। তিনি দাবি করেন, আবারও যদি যুক্তরাষ্ট্র একই ভুল করে, তবে তারা কেবল ব্যর্থই হবে না, বরং একটি ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখোমুখি হবে। রেজাইয়ের মতে, ইরান এমন কোনো দেশ নয় যাকে কেবল ‘টুইট’ বা ‘কাল্পনিক অবরোধ’ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

২. ‘অপ্রকাশিত সক্ষমতা’র হুঁশিয়ারি

ইরানের এই প্রবীণ সামরিক কর্মকর্তা একটি রহস্যময় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে এমন কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ অপ্রকাশিত সক্ষমতা’ (Unrevealed Capabilities) রয়েছে, যা যেকোনো মার্কিন পদক্ষেপকে নসাৎ করে দিতে পারে। এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের কাছে হয়তো এমন কোনো উন্নত প্রযুক্তি বা অস্ত্র রয়েছে যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।

৩. অবসর ভেঙে মোজতবা খামেনির অধীনে ফেরা

দীর্ঘদিন আইআরজিসি (IRGC)-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহসেন রেজাই অবসর নিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের নতুন নেতৃত্বের অধীনে (মোজতবা খামেনি) তিনি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার এই ফেরা প্রমাণ করে যে, তেহরান এখন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তাদের সবচাইতে অভিজ্ঞ সামরিক মস্তিষ্কগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মোহসেন রেজাইয়ের এই মন্তব্য মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতির পাল্টা জবাব। পারমাণবিক ইস্যু আর হরমুজ প্রণালি—এই দুটিই এখন যুদ্ধের বারুদ হিসেবে কাজ করছে। ২২ এপ্রিলের ডেডলাইনের আগে এ ধরণের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।


ইরানের সামরিক অবস্থানের মূল ৩টি পয়েন্ট:

  • সশস্ত্র প্রতিরোধের অঙ্গীকার: নৌ অবরোধ বাস্তবায়নে কোনো ধরণের সুযোগ দেবে না তেহরান।

  • টুইট বনাম বাস্তবতা: ট্রাম্পের ডিজিটাল হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরান।

  • স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স: অপ্রকাশিত সামরিক শক্তির মাধ্যমে বড় ধরণের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি।


উপসংহার: সম্মুখ সমরের দিকে কি বিশ্ব?

মোহসেন রেজাইয়ের এই কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনড় নীতি বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ সংকটে ফেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি যদি যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস রেজাইয়ের এই ‘অপ্রকাশিত সক্ষমতা’র হুমকিকে কতটা গুরুত্বের সাথে নেয়।

আপনার মতামত: আপনি কি মনে করেন ইরানের এই ‘অপ্রকাশিত সক্ষমতা’ সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে রুখে দিতে পারবে? কমেন্টে আপনার বিশ্লেষণ জানান।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency